Friday, September 18, 2015

Longest fish


বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মাছ!
রূপকথার গল্পের মতই মনে হবে। এ ধরনের প্রাণী থাকলেও কিন্তু অবাস্তব নয়। সম্প্রতি সাপের মত দেখতে লম্বায় ৩৬ ফুটের এক প্রাণীকে ক্যামেরাবন্দী করেছে বিবিসি। দেখতে সাপের মত হলেও এটি আসলে এক ধরনের সামুদ্রিক মাছ। সমুদ্রে বাসকারী হাঁড়যুক্ত মাছের মধ্যে এটিই সবচেয়ে লম্বা। এই মাছটির নাম ওরফিস। ভয়ঙ্কর মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি নিরীহ প্রজাতির মাছ। মহাসমুদ্রগুলোতে খুব কমই দেখা যায় এ প্রজাতির মাছ। সমুদ্রের পাঁচ’শ’ থেকে এক হাজার ফুট গভীরতায় ওর ফিসের বসবাস। ১৭৭২ সালে পিটার অ্যাকুয়ানিস নামের এক প্রকৃতিবিদ প্রথম এই মাছটি আবিষ্কার করেন। নামকরণও করেন তিনি। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া সৈকতে এ ধরনের দুটি ওরফিস মৃত অবস্থায় ভেসে এসেছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।

Another Earth In The Womb Of The Earth

পৃথিবীর গর্ভে যেন আরেক পৃথিবী ।Another Earth In The Womb Of The Earth
আচ্ছা আপনাদের ভিয়েতনামের "সান ডং" গুহার কথা মনে আছে? ঐ যে বিশ্বের সব থেকে বড় গুহা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সান ডং গুহার এই বিশ্ব রেকর্ডে এবার কেড়ে নিল সদ্য আবিষ্কৃত চায়নার "এর ওয়াং ডং" (Er Wang Dong)। এই গুহা এতটাই বড় যে এর আছে নিজেস্ব আলাদা আবহাওয়া ব্যাবস্থা রয়েছে খাল, বিল, পাহাড়, আকাশ যাতে রয়েছে মেঘ এবং কুয়াশাও। যেন পৃথিবীর গর্ভে লুকিয়ে থাকা আরেক পৃথিবী।
চীনের "ওয়াওলং কাউন্টি" (Wulong) এর "ওয়ালং কাষ্ট" (Wulong Karst) প্রদেশে অবস্থিত এই গুহা। বাহির বিশ্বে এই গুহা সাম্প্রতিক সময়ে আবিস্কৃত হলেও স্থানিয়দের কাছে অনেক আগেই এই গুহা বেশ পরিচিত। কিন্তু আশা যাওয়া বেশ দূর্গম আর বিপদজনক হওয়ায় আজ পর্যন্ত কেউ গুহায় প্রবেশ করে নাই। বলতে পারেন পৃথিবীর বুকে এমন এক স্থান যা এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত হয়নি।
গুহা অভিযাত্রী এবং ফটোগ্রাফার রব্বি শন এই গুহা বিষয়ে বলেন, "এর আগে এত বিস্তৃত কোন গুহা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, সেখানে রয়েছে অসাধারণ কিছু বিষয় যা দেখে সত্যি আমরা অবাক হয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, এ গুহা এত বিশাল যে এর উপরের অর্ধেক অংশ পুরোটাই কুয়াশা এবং মেঘে ঢাকা। এর আকাশের অংশ প্রায় আনুমানিক ৮২০ ফুট উঁচু হবে, আর এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত দৈর্ঘ্য ১৩৮২৫ ফুট। সম্পুর্ন দৈর্ঘ এখন পর্যন্ত পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। সেখানে উঠা এবং ছবি ধারণ করা অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার ছিল ক্লাইম্বারদের জন্য। এর ভেতরে থাকা পরিতেক্ত জল পান যোগ্য নয় এটা পুরোটাই নোনতা স্বাদযুক্ত।
গুহার ভেতরের গভীরতা এতটাই বিশাল যে সেখানে শীতল আবহাওয়ার পাশাপাশি আর্দ্রতা ও অনেক শীতল ফলে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক নেওয়াটা অনেক কষ্টসাধ্য।
গুহার ভেতরে অনেক যায়গায় জলের পরিমাণ এতটাই বেশি যে সেখানে বিশাল বিশাল স্রোত বয়ে যাচ্ছে যা আপনাকে সহজেই ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। অভিযাত্রীরা তাদের মতামতে জানিয়েছেন এই গুহার ভেতরের জলের প্রবাহ ব্যবস্থা খুবি ভয়ংকর এবং বিধ্বংসী।
এই গুহা নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন বেশি কোন তথ্য এখন পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি বা আবিস্কার হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। সবে মাত্র এই গুহার অভিযাত্রী দল এই গুহার কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন সংবাদ মাধ্যমে। অনেক বেশি কিছু আবিস্কারের আশা করছেন বিশেষজ্ঞ দল।
যেহেতু এত দিনেও এই গুহায় মানুষের পদার্পন ঘটে নাই, আর এর ভিতরের আবহাওয়া বহির বিশ্বের আবহাওয়া থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন এবং মুক্ত, তাই হয়ত এখানে খোঁজ মিলে যেতে পারে হাড়িয়ে যাওয়া কোন উদ্ভিদের অথবা কোন প্রানীর। আবার হয়ত হলিউডের কোন সিনেমার মত এখানে খোঁজ মিলতে পারে কোন জীবন্ত ডাইনোসরের বা নতুন কোন প্রজাতির জীবের। তবে সবই এখন শুধু জল্পনা আর কল্পনার মধ্যেই সীমা বদ্ধো। এখন শুধু সেই সময়ের অপেক্ষা কবে বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত জানাবেন এই এর ওয়াং ডং গুহা সম্পর্কে।